বাজার এখনো খোলেনি
গাঙের পাড়ের ফসল,
সোজা আপনার হেঁশেলে
নদীর ধারের গ্রাম থেকে খাঁটি জিনিস তুলে আনি — সার আর বিষ ছাড়া ফলানো, কৃষকের কাছ থেকে নিজে গিয়ে কেনা। অনলাইন বাজারটা এখনো সাজানো হচ্ছে, শীতের শুরুতেই খুলছে।
বাজারটা কেন বসাচ্ছি
গাঙের পাড়ে যাঁরা চাষ করেন, তাঁদের ফসল কয়েক হাত ঘুরে শহরে পৌঁছায়। কৃষক পান সামান্য, শহরের মানুষ পান ভেজাল। মাঝখানের এই লম্বা পথটা ছোট করাই আমাদের কাজ।
- বিষ ছাড়া
- রাসায়নিক সার আর কীটনাশক ছাড়া ফলানো ফসল। যেটুকু নিয়ে নিশ্চিত হতে পারি না, সেটা তালিকায় রাখি না।
- ফড়িয়া ছাড়া
- আমরা নিজে গ্রামে গিয়ে কিনি। দামটা যায় যাঁর ফসল, তাঁর হাতেই।
- খোলা হিসাব
- কোন জিনিস কোন গ্রাম থেকে এল, ওজন কত, দাম কত — সবটা লেখা থাকবে।
- ঘরে পৌঁছানো
- ঢাকার ভেতরে আমরা নিজেরা দিয়ে আসি, ঢাকার বাইরে কুরিয়ারে পাঠাই।
বাজারে কী কী থাকবে
প্রথম দিনেই সবটা থাকবে না। যেটার যে মৌসুম, সেটা তখনই — তাই তালিকার পাশে সময়টাও লিখে দিলাম।
-
খাঁটি সরিষার তেল
কাঠের ঘানিতে ভাঙানো, ঝাঁজ অটুট
সারা বছর
-
খেজুরের গুড় ও পাটালি
শীতের ভোরে নামানো রস, সেদিনই জ্বাল দেওয়া
পৌষ–মাঘ
-
চাক ভাঙা মধু
সরিষা ক্ষেতের আর সুন্দরবনের
শীত ও বসন্ত
-
গাওয়া ঘি
দুধের সর জ্বাল দিয়ে, ছোট হাঁড়িতে
সারা বছর
-
দেশি চাল
কাটারিভোগ, কালিজিরা, ঢেঁকিছাঁটা আতপ
অগ্রহায়ণের পর
-
গুঁড়া মসলা
হলুদ, মরিচ, ধনিয়া — রোদে শুকিয়ে ভাঙানো
সারা বছর
-
নারকেল তেল
ঘানিতে ভাঙানো, গন্ধ আর রং দুটোই আসল
সারা বছর
-
দেশি ডাল ও ছোলা
মসুর, মুগ, খেসারি — ঝাড়াই করা
সারা বছর
-
মৌসুমি ফল
আম, কাঁঠাল, তাল — গাছে পাকা, কার্বাইড ছাড়া
গ্রীষ্ম–বর্ষা
তালিকাটা বাড়বে। আপনার কী দরকার, জানালে সেটারও খোঁজ করব।
গাঙের পাড় নিয়ে যা লেখা হয়েছে
নামটা আমরা বানাইনি। বাংলা সাহিত্য নদীর পাড়েই বড় হয়েছে — দোকানের নামটাও সেখান থেকেই তুলে নেওয়া।
আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি
পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর
ভোরের জাল গুটিয়ে মাঝি ফেরে,
পাড়ের ধান রোদ পোহাতে বসে —
এই হিসাবটুকুই আমরা
শহরের হেঁশেল অবধি পৌঁছে দিতে চাই।
নদীর পাড়ের তিনটি উপন্যাস
-
পদ্মা নদীর মাঝি
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৩৬
পদ্মার জেলেপাড়া। নদীই যেখানে সংসার, নদীই যেখানে ভাগ্য।
-
ইছামতী
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৫০
ইছামতীর দুই পাড়ের গ্রাম, নীলকুঠির কাল, আর নদীর নিজের সময়জ্ঞান।
-
তিতাস একটি নদীর নাম
অদ্বৈত মল্লবর্মণ, ১৯৫৬
তিতাসের মালো সমাজ — নদী শুকিয়ে এলে যে সমাজটাও শুকোয়।
অর্ডার থেকে আপনার ঘর
-
১
বলুন কী লাগবে
ফেসবুক পেজে মেসেজ করুন বা ফোন দিন। তালিকা থেকে বেছে নিন, পরিমাণ বলুন।
-
২
গ্রাম থেকে তোলা হয়
অর্ডার জমা হলে তবেই গ্রাম থেকে আনা হয়। গুদামে মাসের পর মাস পড়ে থাকে না, তাই যা পান তাজা পান।
-
৩
ঘরে পৌঁছায়
ঢাকার ভেতরে ১–২ দিন, ঢাকার বাইরে কুরিয়ারে ২–৩ দিন। হাতে পেয়ে দাম দেবেন।
বাজার খুললে খবর পাবেন কোথায়
এখনো কোনো অর্ডার নিচ্ছি না। পেজটা ফলো করে রাখুন — প্রথম দিনের তালিকা আর দাম সেখানেই দেওয়া হবে। আগে থেকে কিছু জানার থাকলে লিখে ফেলুন, উত্তর দেব।